আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্কঃ
ইরানের আকাশসীমায় নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারের জন্য পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক আকাশযান ধ্বংস করার দাবি করেছে তেহরান। রোববার ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ইসফাহান প্রদেশে এই অভিযান চলার সময় মার্কিন বাহিনীর ওপর বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে। খবর রয়টার্সের
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত কমান্ডের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্থলপর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের নিবিড় তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তাদের বাহিনীর হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর দুটি C-130 সামরিক পরিবহন বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইরানে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর সেটির নিখোঁজ দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করতে এই বিশাল মার্কিন বহরটি অভিযানে নেমেছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা গত শনিবার গভীর রাতে ওই পাইলটকে সফলভাবে উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করলেও, ইরানের এই দাবি করা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
আলাদা বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, ইসফাহান প্রদেশে শুধু পরিবহন বিমানই নয়, বরং অত্যাধুনিক ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, একটি ইসরাইলি হার্মেস ড্রোন এবং একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শিকারে পরিণত হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ফারস নিউজ’ জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে পেতে মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি ভিন্ন প্রদেশে-চাহারমহল ও বখতিয়ারি, কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের আহমদ এবং ইসফাহানে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালায়। মূলত এই উদ্ধার অভিযানকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরানের এই দাবি সত্য হয়, তবে এটি হবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য অন্যতম বড় সামরিক বিপর্যয়। যদিও ওয়াশিংটন তাদের পাইলট উদ্ধারের সফলতাকে বড় করে দেখাচ্ছে, তেহরান পাল্টা তথ্যের মাধ্যমে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জানান দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি দাবি যুদ্ধকে আরও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ দিতে পারে।
মন্তব্য করুন