জাহাঙ্গীর আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নবযোগদানকৃত জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ আবু সাঈদ এবং মাননীয় সিভিল সার্জন মহোদয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা সদর হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা বলেন, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই সময়মতো টিকা প্রদানই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদ তার বক্তব্যে বলেন, “শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এ ধরনের টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।” তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তাদের সন্তানদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানান।
উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসক হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন। তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসা সেবার মান সম্পর্কে জানতে চান এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক পরামর্শ প্রদান করেন। এ সময় হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ, চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, সিভিল সার্জন মহোদয় টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সফলভাবে পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো শিশু যেন টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন টিকাকেন্দ্রে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উল্লেখ্য, হাম ও রুবেলা ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে সক্ষম। সরকারের এই টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের নিরাপদ রাখা এবং রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
সার্বিকভাবে, এ উদ্যোগকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসূচিটি সফল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন