খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার ইয়াবাসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত মো. জিয়াউর রহমান (৩০)-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মাদকের পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার মাধ্যমেও তিনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ বা মামলা নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ও জুয়ার অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন করতেন বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে তিনি আরও কয়েকজনকে উদ্বুদ্ধ করতেন বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
গত ২২ জুলাই গুইমারা সদর এলাকার যৌথ খামার এলাকায় ইয়াবা সেবন ও নিজের হেফাজতে ইয়াবা রাখার অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে আটক হন জিয়াউর রহমান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিসকাতুল তামান্না ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী তাকে ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকের পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার বিস্তারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এতে তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে। তাই মাদকের পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অনলাইন জুয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক ও অনলাইন জুয়া একে অপরের পরিপূরক অপরাধে পরিণত হচ্ছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসন ও সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
মন্তব্য করুন