বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলনের সফলতার মাধ্যমে সারা দেশ ব্যাপি আলোচনায় আসেন। পরিষদের সফলতায় দীর্ঘ ২৮ বছর পরে ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেখানেও ছাত্র অধিকার পরিষদ এর প্যানেলে ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন, আলোচিত বর্তমান সময়ের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব নুরুল হক নুর, সারাদেশে তিনি ভিপি নুর নামেই বেশ জনপ্রিয়, তার নিজের হাতে তৈরী রাজনৈতিক সংগঠন গণঅধিকার পরিষদ। গণঅধিকার পরিষদ এর নারী সংরক্ষিত আসনে তৃণমূল কর্মীদের প্রত্যাশায় রয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, কারানির্যাতিত নেত্রী রোকেয়া জাবেদ মায়া, এসময় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ কোনাবাড়ী মেট্রো থানার সাবেক প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও সদ্য সাবেক সভাপতি, পূনরায় সভাপতি পদপ্রার্থী, গাজীপুর মহানগর ছাত্র অধিকার পরিষদ এর সহ-সভাপতি কে.আই লোকমান নিউ যুগান্তরকে বলেন রোকেয়া জাবেদ মায়া গণঅধিকার পরিষদ এর সূচনা লগ্ন থেকে দলের নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করছেন এবং সংগঠনের স্বার্থে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি গণ অধিকার পরিষদের জন্য ব্যয় করেছেন, বিশেষ করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদকে সুসংগঠিত করতে বিভিন্ন জেলায় সফর করে সংগঠনকে এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন, তাই আমি মনে করি গণঅধিকার পরিষদ এর নারী সংরক্ষিত আসনে রোকেয়া জাবেদ মায়া আপুর কোন বিকল্প নাই, আমরা তৃণমূল পর্যায়ে রোকেয়া জাবেদ মায়া আপুর পাশে আছি ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।
অন্যদিকে রোকেয়া জাবেদ মায়া বলেন এই দেশে অনেকেই রাজনীতি করেন, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারেন খুব কম মানুষ। তাই তিনি ক্ষমতার রাজনীতি নয়, বরং মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চান।
মায়া জানান, তার বেড়ে ওঠা কালিয়াকৈর উপজেলার গ্রামীণ পরিবেশে। ছোটবেলা থেকেই গ্রামের মায়েদের কান্না, বোনদের বঞ্চনা, শিক্ষিত বেকার তরুণীদের হতাশা, শিশু শ্রম ও পেশী শক্তির প্রভাব দেখে তিনি বড় হয়েছেন। এসব বাস্তবতা তাকে রাজনীতি নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক অঙ্গনে আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়। এর আগে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। রমজানে ইফতার সামগ্রী বিতরণ, ঈদের সময় দরিদ্র ও পথশিশুদের মাঝে উপহার দেওয়া এবং বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন তিনি।
২০২১ সালে ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া সহযোদ্ধাদের দেখতে গেলে তাকেও আটক করে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান মায়া। তিনি দাবি করেন, কোনো অপরাধ ছাড়াই তাকে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীর নেতৃত্বের প্রকৃত পরিচয় হলো সততা, শিক্ষা ও সংগঠনের শক্তি। রাজনীতিতে ত্যাগী, শিক্ষিত ও আদর্শবান নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। যারা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেন না এবং দুর্নীতির সঙ্গে আপস করেন না, তারাই নেতৃত্বের যোগ্য বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তৃণমূলে সাহসী নারী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হলে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করতে হবে। নারীর সম্মান, অধিকার ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নারীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই।
সংরক্ষিত নারী আসনে কাজ করার সুযোগ পেলে তা করবেন বলেও জানান মায়া। তবে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং তৃণমূলের সহযোদ্ধাদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ। দল যদি তাকে মনোনয়ন দিয়ে সংসদে পাঠায়, তাহলে আদর্শ, নীতি, সততা ও পরিশ্রম দিয়ে জনগণের সেবা করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রোকেয়া জাবেদ মায়া।
রোকেয়া জাবেদ মায়া বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ এর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ)এবং এক মেয়াদে ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন, বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ এর কেন্দ্রীয় সংসদ এর সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
মন্তব্য করুন